বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দুই ফ্রিল্যান্সারকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে ধুনট, শেরপুর ও নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে ধুনট থানার ওসি সাইদুল ইসলাম জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এসআই শাহীন মোহাম্মদ অনু ইসলাম, কনস্টেবল রিপন মিয়া, কনস্টেবল আবুল কালাম আজাদ, কনস্টেবল মো. মাহবুর আলম ও কনস্টেবল মো. বাশির আলী।
এ সময় তাদেরকে বহনকারী গাড়ির চালক মো. মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, ধুনট উপজেলার দিগলকান্দি গ্রামের ফ্রিল্যান্সার রাব্বি (১৯) ও জাহাঙ্গীরকে (২৪) রবিবার রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশের পরিচয় দিয়ে একদল ব্যক্তি তুলে নিয়ে যায়। ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর এলাকায় নিয়ে গিয়ে পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যা করে গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
রাতেই জাহাঙ্গীরের পরিবার দুই লাখ টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে রাব্বির পরিবার বিকাশের মাধ্যমে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পাঠালে তিনিও ছাড়া পান।
রাব্বি মুক্তি পাওয়ার পর তার পরিবার মোটরসাইকেল নিয়ে অভিযুক্তদের গাড়ির পিছু নেয়। পরে নন্দীগ্রামের কুন্দারহাট এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের টহল দলের কাছে তারা পুরো ঘটনা জানান। এরপর পুলিশ তাদের আটকানোর চেষ্টা করে।
কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনোয়ারুজ্জামান বলেন, আমরা রাতের টহলের সময় খবর পাই যে, একদল ব্যক্তি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মুক্তিপণ আদায় করেছে। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ধুনট থানার ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশে কর্মরত। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিকালে আদালতে পাঠানো হবে।
গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা, একটি ওয়াকিটকি, একটি হ্যান্ডকাফ ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :