পবিত্র মাহে রমজান শেষে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গাইবান্ধায় নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য টানা ৫ম বারের মত ‘এক টাকার বাজার’ কর্মসূচির আয়োজন করে ‘আমাদের গাইবান্ধা’ নামে স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন।
প্রতীকি মূল্য এক টাকার বাজারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পদোন্নতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক জেলা ম্যাজিস্ট্রেট চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ ২৫০টি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে ১ টাকার প্রতীকি মূল্যে বাজারে পণ্য হিসাবে তুলে দেন একটি সোনালী মুরগি, আলু, বাঁধাকপি, বেগুন, চাল, সয়াবিন তেল, ডাল, সুজি, চিনি, নুডলস, সেমাই, গুড়া দুধ, লবণ, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, লেবুসহ আরও কয়েক প্রকারের সবজি।
শনিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে গাইবান্ধার স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে এই ‘এক টাকার বাজার’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।এ সময়
আমাদের গাইবান্ধা সংগঠনের সভাপতি সায়েম রহমানসহ সংগঠন এর উপদেষ্টাবৃন্দ এবং সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এক টাকা মূল্যে বাজার পেয়ে সুবিধাভোগীরা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বাজারে একবারে সব পণ্যই কেনার সামর্থ্য হয় না নিম্ন আয়ের ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের। তাই এক টাকায় অনেক কিছু পেয়ে খুশি আমরা। পরিবার নিয়ে কয়েকদিন হলেও ভালো খেতে পারবো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছু কয়েকজন নিম্ন আয়ে ক্রেতা বলেন এক টাকার বাজারে পণ্য পাওয়া আমাদের কাছে যেন ছিল গল্পের মত কিন্তু বাস্তবে এক টাকার বাজারে মিলছে অনেকগুলো পণ্য। তবে অন্য বারের তুলনায় এইবার অন্তবতীকালীন সরকারের প্রচেষ্টায় গাইবান্ধা জেলায় জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে দ্রব্যমূল্যের দাম তুলনামূলক কম থাকায় মানুষের ভিতরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস দেখা গিয়েছে। তাছাড়া অন্তবর্তী কালীন সরকার ১৪ রমজান থেকে ঈদ উপহার হিসেবে দশ কেজি করে ভিজিএফ মাধ্যমে দুস্থ অসহায় মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করেছেন, এছাড়াও গাইবান্ধায় রমজানের প্রায় প্রতিদিনই ২০০০ খোলা বাজারে কয়েকটি পয়েন্টে মানুষকে টিসিবির পণ্য বিতরণ করা হয়েছে, তাছাড়াও ডিলারদের মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড দিয়ে টিসিবির পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও সুলভ মূল্যে গাইবান্ধা জেলা শহরের নির্ধারিত কিছু স্থানে আটা ও চাল বিতরণ করার কারণে এবার মানুষের ভিতরে ফিরেছে শান্তির স্বস্তি। দ্রব্যমূল্যের উদ্ধগতি থাকে প্রতি রমজানে। কিন্তু তা এবার ২০২৫ সালের রমজান মাসে অন্তবর্তী কালীন সরকার লাগাম টেনে ধরতে পেরেছে ।
কয়েক বছর থেকে এক টাকা প্রতিকি মূল্যে একসঙ্গে অনেকগুলো পণ্য ২৫০ জন পরিবারের মধ্যে দেয়ায় পরিবারগুলোর ইদুল ফিতরের ঈদ ভালোভাবে কাটে। তবে এবার আরো আনন্দের সঙ্গে কাটবে। এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যারা জড়িত ভবিষ্যতে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গাইবান্ধায় আরো বেশি পরিবারের মাঝে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া গেলে সংগঠনটির কাঙ্ক্ষিত যে ফল সেটি অর্জিত হবে। সুফল মিলবে সমাজে। স্বস্তি ও শান্তিতে থাকবে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। ‘আমাদের গাইবান্ধার’ সভাপতি সায়হাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মুসাব্বির রহমান রিদিম বলেন, ক্রমবর্ধমান বাজার মূল্যে অতিসাধারণের ঈদ আনন্দ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেই লক্ষ্যে পরিবার প্রতি এক টাকার বিনিময়ে চাল, ডাল, মুরগিসহ ২০ রকমের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। গত কয়েক বছর থেকে আমরা দুস্থ অসহায় মানুষগুলোর পাশে থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি মাত্র।
আপনার মতামত লিখুন :